অতিরিক্ত ঘাম ও শরীরের দুর্গন্ধ? মুক্তির ৭টি কার্যকর উপায়
অতিরিক্ত ঘাম এবং শরীরের দুর্গন্ধ অনেকের জন্যই বিব্রতকর একটি সমস্যা। এটি মূলত কর্টিসল নামে পরিচিত স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হতে পারে।
কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন হয়, যা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

তবে কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত ঘাম ও শরীরের দুর্গন্ধ কমানোর কার্যকরী উপায়—
১. প্রতিদিন পরিষ্কার থাকুন
শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত গোসল করা। দিনে অন্তত একবার গোসল করুন এবং ঘাম জমে থাকে এমন স্থান, যেমন— বগল, ঘাড়, গলা ও পায়ের আঙুলের ফাঁক পরিষ্কার করুন।
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দূর করা সহজ হবে।
২. ঘামের জন্য মানানসই পোশাক পরুন
সুতির বা হালকা সুতি কাপড়ের পোশাক পরার চেষ্টা করুন, কারণ এই ধরনের কাপড় বাতাস চলাচলের সুবিধা দেয় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখে। সিন্থেটিক বা নাইলনের পোশাক ঘাম শোষণ করতে পারে না, বরং এটি ঘাম আটকে রেখে দুর্গন্ধ তৈরি করে।
৩. কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খান
ভাজা খাবার, মসলাযুক্ত খাবার এবং বেশি চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই প্রচুর সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৪. ক্যামোমাইল বা গ্রিন টি পান করুন
ক্যামোমাইল ও গ্রিন টি শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে এবং কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে ঘাম ও শরীরের দুর্গন্ধ কমে যায়। প্রতিদিন এক কাপ ক্যামোমাইল বা গ্রিন টি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৫. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
ব্যায়াম করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায় এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধ কম হয়।
৬. ডিওডোরেন্ট বা ন্যাচারাল অয়েল ব্যবহার করুন
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে সুগন্ধিযুক্ত ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। এছাড়া, প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে নারকেল তেল বা টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ও দীর্ঘস্থায়ী সতেজতা প্রদান করে।
৭. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমান
অপর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যা ঘাম ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান এবং ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
শেষ কথা
অতিরিক্ত ঘাম ও শরীরের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সুস্থ জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলেই আপনি সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।